প্রিয় পাঠক! আজকে আমরা রজব মাসের করনীয় আমল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব যে এই মাসে মুসলমানদের জন্য কি কি করনীয় ও কি বর্জনীয়। রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল
Rajab Maser Amol
পবিত্র রমাযান মাসের পূর্বে আমাদের সামনে রয়েছে দুটি মাস; রজব ও শা’বান।
আজকে আমরা সেই রজব এবং শা’বান মাসের পালনীয় ও বর্জনীয় বর্জনীয় আমল সম্পর্কে কিছু আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
রজব মাস
রজবের শাব্দিক অর্থ সম্মান।
জাহেলী যুগে মানুষ এই মাসকে সম্মান করতো বলে এর নামকরণ হয়েছে রজব।
এ মাসকে ‘রাজাবু মুযার’ও বলা হয়। কারণ মুযার গোত্রের লোকেরা এ মাসকে সর্বাধিক মর্যাদায় ভূষিত করতো।
(আস-সিহাহ ফিল-লুগাহ ১/২৪৩)
রজব মাসের একটি ঐতিহাসিক বিশিষ্টতা ও পটভূমি রয়েছে।
আছে এর শব্দগত ও নামগত আরো বিস্তারিত আলোচনা, আমরা সেদিকে যাবো না।
তবে রজব ‘আশহুরে হুরুম’ অন্তর্গত একটি অন্যতম সম্মানিত মাস।
আরবের পৌত্তলিকরা এ মাসকে কেন্দ্র করে পশু বলিসহ নানা রকম কুসংস্কৃতি চর্চায় মেতে থাকত।
তারা এ মাসের মর্যাদা চর্চায় প্রান্তিকতা ও গোঁড়ামির পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতো।
এমন কি রজব মাস উদযাপনে তারা যুদ্ধ বিগ্রহ আর রক্তপাতের মতো অতি আবশ্যক ব্রতটিকেও ‘সাজঘরে’ পাঠিয়ে দিতো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাস কেন্দ্রিক এ জাতীয় নষ্ট কালচারের আমূল সংস্কার সাধন করেন।
কিন্তু আক্ষেপের কথা হল, আজকের মুসলিম সমাজে রজব মাস কেন্দ্রিক সে নষ্ট আচার-আনুষ্ঠাকিতা দীনী শিরোনামে নব অবয়বে চর্চিত হচ্ছে।
রজব মাস কেন্দ্রিক এসব রসম-রেওয়াজের কিছু ফিরিস্তি ‘বর্জনীয় বিষয়’ শিরোনামে তুলে ধরা হচ্ছে।
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
রজব মাসের বর্জনীয় আমল
(১) সালাতুর রাগায়েব: এটি ‘লাইলাতুর রাগায়েব’ তথা রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অথবা রজব মাসের ২৭ তারিখের রাতে বিশেষ নিয়মে নামায;
এই নামাজ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষ নিয়মে আদায় করা হয়।
এর বিনিময়ে ১০০ বছরের পূণ্য-নেকীর বর্ণনা এসেছে, এটি একটি জাল (বানোয়াট) বর্ণনা।
আল্লাম আবু বকর মুহাম্মদ তুরতূশী (রহঃ) বলেন, ৪৮০ হিজরীর পরবর্তী যুগে বাইতুল মাকদিসে এ জাতীয় সালাতের উদ্ভব হয়েছে।
এর আগে এসবের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
ইমাম ইবনুস সালাহ (রহঃ) বলেন, এটি একটি ঘৃণিত বিদআত।
হিজরী বর্ষের চার শত বছর পরে সিরিয়া ভূখণ্ডে এর উদ্ভব হয়েছে।
তারপর এখান থেকে অন্যান্য অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।
(আব্দুল হাই লাখনুবী, আল-আসারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওযুআহ ১/৬২,৭২, ১৩৭, ইমাম শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমু‘আহ ১/৪৮, ইমাম যাহাবী, তালখীসু কিতাবিল মাউযুআত ১/১০৭)
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
(২) ‘শবে এস্তেফতাহ’ এর নামায: রজব মাসের ১৪ দিবাগত রাতে বিশেষ নিয়মে চার (৪) বা পঞ্চাশ (৫০) রাকাত নামায নির্দিষ্ট পরিমাণ দুরূদ, তাসবীহ-তাহমীদ ও তাহলীল আদায় করে এস্তেফতাহের এ নামায আদায় করা হয়।
এ নামাযের বিনিময়েও পূণ্য-মার্জনা প্রাপ্তির ফুলঝুরি দেখানো হয়েছে। এটিও একটি জাল (বানোয়াট) বর্ণনা।
(আব্দুল হাই লাখনুবী, আল-আসারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওযুআহ ১/১১২)
(৩) সালাতে ওয়াইস কারনী: তিন, (৩) চার (৪) অথবা পাঁচ (৫) রজবের প্রথম প্রহরে সীমাহীন সাধনাযোগে বিশেষ নিয়মে ছয় রাকাত নামায আদায়ের মাধ্যমে এ নামায আদায় করা হয়।
এটিও একটি জাল (বানোয়াট) বর্ণনা।
(আল-আসারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওযুআহ ১/১১১)
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
এছাড়াও:-
- রজবের প্রথম রাতে মাগরিবের নামাযের পর বিশেষ নিয়মের বিশ বা চল্লিশ রাকাত নামায।
- ১৪ রজবের দিবাগত রাত্রিতে চৌদ্দ রাকাত নামায।
- ২৬ রজব দিবাগত রাতের ১২ রাকাত নামায।
- এ মাসে আয়াতুল কুরসী এবং একশত বার সূরা ইখলাস পাঠ সম্বলিত বিশেষ নিয়মের চার রাকাত নামায।
- এ মাসের শেষ জুমু‘আয় পঠিত বিশেষ নিয়মের বার রাকাত নামায।
- এবং এ মাসের শেষ তারিখের দিবাগত রাতের বিশেষ নিয়মের বার রাকাত নামায,
এসবই জাল (বানোয়াট) বর্ণনা আশ্রিত নামাযের বিবরণ।
আল-আসারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওযুআহ, ইবনুল জাউযী রহ. রচিত কিতাবুল মাউযুআতসহ বিভিন্ন মাউযু (মনগড়া) হাদীস গ্রন্থে রজব মাসের এ জাতীয় নামাযের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় রচিত হয়েছে।
ইহয়াউ উলূমিদ্দীন, আব্দুল কাদের জিলানী রহ. এর নামে প্রচলিত গুনইয়াতুত তালিবীন, আবু তালেব মাক্কী কৃত ক্বুতুল ক্বুলূব এবং বাংলা মোকসেদুল মোমেনীন, নেয়ামুল কুরআন, আমালুল কুরআন, বার চান্দের আমল প্রভৃতি পুস্তিকায় চটকদার জাল হাদীসের ভাষায় সালাতুর রাগায়েবসহ এজাতীয় নামাযের বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।
বর্ণনাগুলো সবিই মিথ্যা এবং বানোয়াট।
মানব রচিত এ জাতীয় ‘হাদীসের’ ওপর আমল করার কোনোই সুযোগ নেই।
কষ্টসাধ্য এসব নামায আদায় করতে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপের শাস্তি প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি অর্জন ব্যতিরেকে আর কিছুই লাভ হবে না।
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
(৪) রজব মাসের নির্দিষ্ট দিন-তারিখের রোযা:
রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারের রোযা, মি’রাজের রোযা তথা ২৭ রজবের রোযা, এ মাসে এক থেকে পনেরটি রোযা পালন,
এবং প্রত্যেক সংখ্যক রোযার জন্য আলাদা আলাদা পূণ্য-মার্জনার সমাহার প্রদর্শন,
তেমনিভাবে তিন, সাত, আট, পনের এবং পূর্ণ রজবের রোযার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাহাত্ম্য ও ফযীলতের বর্ণায়নসহ রজব মাসের বিভিন্ন দিন তারিখের রোযা সম্বলিত যেসব হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমের নামে সমাজে বা বই-পুস্তকে প্রচলিত আছে তা সবই হাদীস শাস্ত্রবিদদের মতে ভিত্তিহীন এবং অপাঙ্ক্তেয়।
এ জাতীয় রোযা রেখে উপোস থাকার কোনোই সুযোগ নেই।
বিশিষ্ট তাবেয়ী আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস রাযি. পূর্ণ রজব মাস রোযা রাখতে নিষেধ করতেন; যাতে এ মাসকে উৎসব হিসেবে উদযাপন না করা হয়।
ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।
মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক (হা.নং ৭৮৫৪)
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
(৫) পশু জবাই করা: সম্ভবত (আনুমানিক) ১১৯২ খ্রিস্টাব্দের দিকে বর্তমান আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের অন্তর্গত ‘চিশত’ এলাকা থেকে ভারতের আজমীর শহরে আগমন করেন মহান সাধক মনীষী মুঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) (৬২০/ ৬২৭/ ৬৩৩/ ৬৩৪হি.)।
এ মহান সাধকের মৃত্যু দিবসকে কেন্দ্র করে ভারতের আজমীরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উরস-উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মুঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) অথবা আজমীর শরীফের নামে পশু মানত করে।
মান্নতের সেসব পশু এইসব উরসে জবাই করা হয়।
এটা আরব্য জাহেলী যুগের নতুন বলিপ্রথা ছাড়া কিছুই নয়।
জাহেলী যুগের লোকেরা তাদের প্রতিমাদের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে পশু বলি দিয়ে রজব মাস উদযাপন করতো।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
ইসলামে আতীরা অর্থাৎ রজব মাসের প্রথম দিনে প্রতিমা বা মুর্তির সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু বলি দেয়ার প্রথা নেই।
(সহীহ বুখারী হা.নং ৫৪৭৪, ফাতহুল বারী ২০/৩৯১)
রজব মাসের এ পশু বলিদানকে কেন্দ্র করেই ترجيبُ العَتيرَةِ শব্দটির প্রচলন হয়।
অর্থাৎ রজব মাসে প্রতিমার উদ্দেশে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া।
সুতরাং প্রতিমার সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু বলিদান এবং মাজার কিংবা কোনো ব্যক্তির উদ্দেশে পশু জবাই বিধানগত দিক থেকে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
বাস্তবে এ দুটোর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। উভয়টিই স্পষ্ট শিরক।
(তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব ১/ ২৫, শাহরু রাজাব বাইনাল মুবতাদা’ ওয়াল মাশরু’ ৩, মাহামূদ আব্দুর রউফ, আল-কাশফু আন হাকীকাতিস সুফিয়াহ ১/৩৪০)
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
(৬) আজমীরী ডেগ চর্চা: এই পবিত্র রজব মাসে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে লাল কাপড়ে মোড়ানো কিম্ভূতকিমাকার বহু রঙিন ডেগ চোখে পড়ে।
‘আজমীর’ ভক্ত ভাইয়েরা মুঈনদ্দীন চিশতী (রহঃ) এর মৃত্যু দিবস পালনের উদ্দেশ্যে অর্থের যোগান দিতে এ ডেগ পন্থার আবিষ্কার করেছেন।
আর সাদাসিধে কিছু মানুষ এদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এসব ডেগ-ডেগচিতে নিয়ায মান্নতের অর্থ দিয়ে নিজেদের ঈমান-আমলকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন।
এসব ঈমান হরণকারী ডেগে টাকা দেওয়াও নিষেধ এবং এ টাকায় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য আহার করাও নিষেধ।
একটি প্রশ্ন, মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ. কি রজব মাসে ইন্তেকাল করেছিলেন? বিশুদ্ধভাবে কি তাঁর ইন্তেকাল-মাস প্রমাণিত?
বস্তুত তিনি ঠিক কত হিজরী সনে ইন্তেকাল করেছেন তা নিয়েই বিতর্ক রয়েছে।
৬২০, ৬২৭, ৬৩৩, ৬৩৪ হিজরী তাঁর মৃত্যু সনের এ চারটি মত পাওয়া যায়।
মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ.এর সুনির্দিষ্ট মৃত্যু-তারিখটি বোধ হয় ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
আমাদের সমাজে ধোঁয়াশাচ্ছান্ন মৃত্যু কিংবা জন্ম দিবস উদযাপনের অনেক নযীর রয়েছে।
অথচ মৃত্যু বা জন্ম দিবস কেন্দ্রিক উৎসব পালন করার কোন অনুমতি ইসলামে নেই।
(তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব; ২৫)
রজব মাসের করনীয় ও বর্জনীয় আমল-Rajab Maser Amol
রজব মাসের করনীয় আমল
রজব মাসের করনীয় আমল সম্পর্কে কোন নির্দিষ্ট আমল নাই।
এছাড়াও এ মাসের আমল হিসেবে যেকোন ধরনের ভালো আমল করা যেতে পারে।
যেমন:
- অন্নদান করা।
- বস্ত্র দান করা।
- জানাযা পড়া।
- দান খয়রাত করা।
- নফল নামায পড়া।
- নফল রোজা রাখা।
- পানীয় পান করানো।
- রোগীদের সেবাযত্ন করা।
- কুরআন তেলাওয়াত করা।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা।
- ক্ষুধার্ত দের খাবার খাওয়ানো।
- কলেমা, তাসবীহ ও তাহলীল পড়া।
- ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া।
- মানুষ ও জীবজন্তু দের সাহায্য করা।
এসব আমলের বিনিময়ে অফুরন্ত ফযীলত লাভসহ দু‘আ কবুল হওয়া এবং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এই ধরনের বিভিন্ন রকম ইবাদত করা যেতে পারে।
আর যেসব হাদীস সমাজে প্রচলিত আছে তার সবই ভিত্তিহীন, জাল ও বানোয়াট।
তবে কোন ইবাদত কে কোন দিন বা কোন সময়ের সাথে এ রকম ভাবে নির্দিষ্ট না করে নেওয়া যে সেই ইবাদত সেই দিন বা সেই সময়েই করতে হবে, আর না করলে গুনাহ হবে।
যেহেতু এ সব আমলগুলো নফল তাই কেউ না করলে তাকে খারাপ বলা যাবে না।
আর নামাজ পড়ার কোন রকমের নির্ধারিত সময় বা নির্ধারিত নিয়ম নেই, যেভাবে অন্যান্য নফল নামায পড়তে হয় সেই ভাবেই নামাজ আদায় করতে হবে।
রজব মাসেই কি শবে মি’রাজ হয়েছে?
(৭) শবে মি’রাজ উদযাপন: ২৭ রজব ‘শব-ই-মিরাজ’ উপলক্ষে কোন কোন জায়গায় বিভিন্ন সরকারী ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারী ছুটিই প্রমাণ করে এ দিবসটির গুরুত্ব কত বেশি!
মিরাজের ব্যাপারটি একটি তাৎপর্যময় ঘটনা। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু আবিষ্কার করে ধর্মাচারের রূপ দান করার কোনো সুযোগ ইসলামে আছে কি না, তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
মিরাজের রাত্রিকে কেন্দ্র করে কোনো আচার আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন ইসলাম-অনুমোদিত নয়।
উপরন্তু বিদগ্ধ উলামায়ে কেরামের মতে ‘মি’রাজের ঘটনাটি রজব মাসে হয়েছে’ এটা লোকমুখে প্রসিদ্ধ হলেও ঐতিহাসিকভাবে সুনিশ্চিত স্বীকৃত নয়।
সীরাত-ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে মিরাজের তারিখ নিয়ে বহু উক্তি রয়েছে।
এ কারণে সুনির্দিষ্ট করে মিরাজের রজনী ঘোষণা করার অবকাশ নেই।
আর ২৭ রজবের ব্যাপারে ইমাম ইবরাহীম হারবী, ইবনে রজব হাম্বলীসহ অনেক স্পষ্ট করেই বলেছেন, এ রাতে মিরাজ সংঘটিত হয় নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে মিরাজের ঘটনা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল।
কিন্তু মাস, দিন তারিখের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
(তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব ১/২০-২৫, লাতায়িফুল মা‘আরিফ ১/১২৬)
সারকথা, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে রজব মাসের মাহাত্ম্য, এ মাসের বিশেষ দিনের রোযা এবং বিশেষ নিয়মের নামায সম্বন্ধে প্রমাণযোগ্য কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণিত হয়নি।
(তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী শাহরি রাজাব ২)
Urdu Reference: banuri.edu.pk/
-:আরো পড়ুন:-

আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় পাঠক!
আমার নাম মোঃ নাজামুল হক, আমি একটি ইসলামী মাদ্রাসার শিক্ষক।
আমি মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইনে ইসলামিক প্রবন্ধ লিখতে থাকি, যাতে মানুষ সঠিক বিষয় জানতে পারে।
আপনি আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন এবং সঠিক তথ্য থেকে উপকৃত হন।
আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে বা আমাদের কোন ভুল সম্পর্কে জানাতে চান, তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, জাযাকুমুল্লাহু খাইরন।