প্রিয় পাঠক! আজকের এই পোষ্টের মধ্যে আমরা জানবো যে, জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি? জেহাদ কি ইসলাম প্রচারের জন্য করা হয়? নাকি অন্য কোন কারণে জিহাদ করা হয়?
জিহাদ কি ও কেন করা হয়?
জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
জিহাদের উদাহরণ হলো একটি অপারেশনের (Operation, অস্ত্রোপচারের) মতো,
কারণ পদার্থ বা অসুখ দুই ধরণের হয়:
- একটি সংক্রামক
- একটি অ-সংক্রামক।
অ-সংক্রামক পদার্থটি ওষুধের দ্বারা দমন ও দূর করা হয়, যেমন: কোন ওষুধ খাওয়া হয় বা মলম লাগানো হয় অথবা কোন ম্যাসাজ করা হয়, যাতে সেই অসুখ দূর হয়ে যায়।
আর সংক্রামক পদার্থের জন্য অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করা হয়, যার দ্বারা সমস্যা হয় তাকে কেটে ফেলা হয়।
ঠিক তেমনি, ইসলামের শত্রু দুই ধরণের।
- কিছু শত্রু তো এমন হয় যারা সুলহ (শান্তির চুক্তি)-এর উপযুক্ত হয়, তাই তাদের সাথে সুলহ (শান্তির চুক্তি) করে নেওয়া উচিৎ হয়। তারা সেই চুক্তি মেনে নিয়ে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধ করে দেয়।
- আবার কেউ কেউ এতটাই একগুঁয়ে এবং দুর্নীতিবাজ ও ক্ষতিকারক হয় যে তারা শান্তি স্হাপন করার জন্য প্রস্তুত হয় না।
এটাই হলো সংক্রামক, এদের জন্য একটি অপারেশনের প্রয়োজন, এরিই নাম জেহাদ।
অতএব, জিহাদের উদ্দেশ্য মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করানো নয়, বরং জেহাদের উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করা।
জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
লোকেরা ঔরঙ্গজেব আলমগীর (রাহঃ)-এর বদনাম করে বলে যে, তিনি হিন্দুদেরকে জবরদস্তি (বাধ্য) করে মুসলমান বানাতেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা।
আলমগীর (রাহঃ) একজন ধর্মীয় (শরিয়তের পাবন্দী) ব্যক্তি ছিলেন।
১২,০০৩ টি (বারো হাজার তিনটি) হাদিসের হাফিজ ছিলেন।
এবং কুরআন লিখে হাদিয়া করে নিজের খরচ বহন করতেন।
নিজের খরচের জন্য তিনি কোষাগার (সরকারি খাজানা) থেকে এক পয়সাও নিতেন না।
তিনি কুরআনের হুকুম “لا اكراه في الدين” অর্থাৎ”ধর্মে কোন জোরজবরদস্তি নেই” এই আদেশ তিনি আগে থেকেই জানতেন।
তিনি এই হুকুমের বিরুদ্ধে কীভাবে যেতে পারতেন?
তাই বোঝা গেল যে ঔরঙ্গজেব আলমগীর (রাহঃ)-এর নামে এই ধরনের কথা তেনাকে বদনাম করার জন্য বলা হতো।
এ গুলো বাদ দিয়ে আমি জিজ্ঞাসা করি যে, বর্তমান সময়ে যেসব অমুসলিম ভাইরা ভারতের মধ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, তারা কেন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যায়?
তাদের উপরে কে তলোয়ারের জোর চালায়?
অবশ্যই, এই সময়ে তাদের উপর কোনও চাপ নেই, বরং তাদের সমস্ত রকমের স্বাধীনতা রয়েছে,
আর আমরা কোনওভাবেই তাঁদেরকে লোভ দেখিয়ে মুসলমান বানাতে পারি না।
মুসলমানদের কাছে এত সম্পদও নেই যে তারা কাউকে টাকা পয়সার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করাবে,
বরং আজকাল যদি কোন নতুন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে সাথে সাথেই তার কাছে ধর্মীয় কাজের জন্য দান বা অনুদান চাওয়া হয়।
আর যদি কেউ ইসলাম কবুল করার জন্য আমাদের কাছে টাকা পয়সা চায়, তাহলে আমরা স্পষ্টভাবে বলি যে, তুমি নিজের মুক্তির জন্য ইসলাম কবুল করতে চাও তো করো,
নইলে, আমাদের কাউকে লোভ লালসা দিয়ে মুসলমান বানানোর কোন প্রয়োজন নেই।
বরং, আমরা তোমাকে যে সম্পদ দিচ্ছি তার বিনিময়ে, তুমি নিজেই যদি তা আমাদেরকে দান কর তবে এটি খুবই ভালো হবে।
কিন্তু আজকে ভারতে এই ধরনের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে অনেক মানুষ এখনও ইসলাম নিয়ে আসছে এবং তার ধারাবাহিকতা চলতেই আছে।
আর মুসলমান হওয়ার সাথে সাথেই তাদের মনে হয় যেন তারা নিজের হারানো প্রিয়জনকে খুঁজে পেয়েছে।
একজন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণের পর, সে আল্লাহর ভালোবাসায় এবং তাঁর স্মরণে এত পরিমাণ কেঁদেছিল যে এটা বর্ননা করা যায় না।
আর সে বলতো যে, “এখন আমি বুঝতে পারছি যে আল্লাহ্ কাকে বলে।” তো, এটা একটা অদ্ভুত অবস্থা ছিল।
জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
জেহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
জেহাদ ফী সাবীলিল্লাহ
আল্লাহর পথে জিহাদ মানে বিশৃঙ্খলা, নিপীড়ন এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।
এই সব কে প্রতিহত করার জন্য, আল্লাহতায়ালা তাঁর নেককার বান্দাদের তরবারি মাধ্যমে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন;
অতএব, আল্লাহ বলেন:
﴿اُذِنَ لِلَّذِیْنَ یُقٰتِلُوْنَ بِاَنَّھُمْ ظُلِمُوْا وَاِنَّ اللہَ عَلٰی نَصْرِھِمْ لَقَدِیْرُ o الَّذِیْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِھِمْ بِغَیْرِ حَقٍّ اِلاَّ اَنْ یَّقُوْلُوْا رَبُّنَا اللہُ﴾
অর্থ: যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে তাদের সঙ্গে লড়াই করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের প্রতি অন্যায় (অত্যাচার) করা হয়েছে।
আর আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।
এরা সেইসব মানুষ যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নির্দোষভাবে বের করা হয়েছে।
তাদের একমাত্র এই দোষ ছিল যে তারা আল্লাহকে নিজের রব ও প্রভু বলে মেনে নিয়েছে।
এই আয়াতের মধ্যে আছে যে, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের দোষ বা অপরাধ এটা বলা হয়নি যে তারা ভিন্ন ধর্মের অনুসারী অর্থাৎ অমুসলিম হওয়ার কারণে তাদের সাথে যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হচ্ছে;
বরং, তাদের অপরাধ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে তারা অন্যায় ও অত্যাচার করে, এবং তারা নিরীহ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়,
এই ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিরোধমূলক যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি;
বরং অন্যান্য নির্যাতিত ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষকে অত্যাচারীদের কবল থেকে উদ্ধার করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জেহাদ কেন করা হয়? জিহাদের আসল উদ্দেশ্য কি?

আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় পাঠক!
আমার নাম মোঃ নাজামুল হক, আমি একটি ইসলামী মাদ্রাসার শিক্ষক।
আমি মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইনে ইসলামিক প্রবন্ধ লিখতে থাকি, যাতে মানুষ সঠিক বিষয় জানতে পারে।
আপনি আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন এবং সঠিক তথ্য থেকে উপকৃত হন।
আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে বা আমাদের কোন ভুল সম্পর্কে জানাতে চান, তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, জাযাকুমুল্লাহু খাইরন।